নির্ভরযোগ্য সংবাদ, সবার আগে
ad728

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্তে তিন চাকার যান

প্রিন্ট
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্তে তিন চাকার যান
অডিও নিউজ
স্বয়ংক্রিয় পাঠ—ডিভাইসের সেরা উপলভ্য ভয়েস ব্যবহার করবে।
00:00 00:00
অডিও প্রস্তুত।
এস এম মিজানুর রহমান মজনু, কালকথন ডট কম
সরকারি নির্দেশনা ও ট্রাফিক বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, ঢাকাসহ দেশের প্রধান সড়কগুলোতে তিন চাকার যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। অথচ ঢাকা-ময়মনসিংহ চারলেন মহাসড়কের একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে অবাধে চলাচল করছে তিন চাকার বিভিন্ন যানবাহন। ব্যস্ত মহাসড়কে এসব যানবাহনের চলাচলে একদিকে যেমন যানজট সৃষ্টি হচ্ছে, অন্যদিকে বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। 

নিষেধাজ্ঞা ও নানা উদ্যোগের পরও মহাসড়কে তিন চাকার যান চলাচল বন্ধ করা যাচ্ছে না বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। 

তবে পুলিশ প্রশাসন মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং দুর্ঘটনা এড়াতে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে অবৈধ গাড়ি জব্দ করছে।

তিন চাকার যানবাহনের কারণে সড়কে প্রতিদিনই ঘটছে নানা দুর্ঘটনা। যানজট এড়াতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিলেও মানছেন না তিন চাকার যানবাহনের অদক্ষ চালকরা।

অপরদিকে, থ্রি-হুইলার বা তিন চাকার মোটরচালিত রিকশার কারণে বিদ্যুতের অপব্যবহারও বাড়ছে। বৈদ্যুতিক মোটরচালিত এসব রিকশায় ব্যাটারির চার্জ দিতে গিয়ে অবৈধ বিদ্যুতের সংযোগও বাড়ছে। ফলে অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনা ঘটে।

অভিযোগ রয়েছে, হাইওয়ে পুলিশ ও ট্রাফিকের দায়িত্বরত কিছু অসাধু পুলিশ সদস্য বিশেষ সুবিধা নিয়ে অবৈধ এসব যানবাহনকে মহাসড়কে চলাচলের সুযোগ করে দেয়। এ কারণে গোপনে নয়, বরং প্রকাশ্যে দূরপাল্লার যানবাহনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলে তারা। তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না বলে দাবি সচেতন মহলের।

সরেজমিনে গিয়ে ঘুরে দেখা গেছে, ভালুকা উপজেলার ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, ইজিবাইক, সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ বিভিন্ন ধরনের তিন চাকার যান চলাচল করছে। অনেক সময় এসব যানবাহন দ্রুতগতির বাস, ট্রাক ও পণ্যবাহী যানবাহনের সঙ্গে একই লেনে চলাচল করায় ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে।

জানা যায়, মহাসড়কে তিন চাকার এসব মোটরচালিত রিকশাগুলো অবাধে চলাচল করছে। কখনো কখনো পুলিশের অভিযানের মুখে এগুলোর চলাচল সাময়িক বন্ধ থাকছে। তবে অভিযান থেমে গেলে পরিস্থিতি ফিরছে আগের অবস্থায়। সড়কে অটোরিকশা চলাচলের কারণে প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। এতে প্রাণহানিসহ আহতের ঘটনা ঘটছে হরহামেশাই।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মহাসড়কে তিন চাকার যানবাহন চলাচল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা আলোচনা ও অভিযোগ থাকলেও পরিস্থিতির তেমন পরিবর্তন হয়নি। দিনের ব্যস্ত সময়েও এসব যান অবাধে চলাচল করছে। এমনকি দায়িত্বে থাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সামনে দিয়েও তিন চাকার যান চলাচল করলেও অনেক সময় তাদের থামানো বা সরিয়ে দেওয়ার কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায় না।

এদিকে, পুলিশ বলছে, মহাসড়কে যানজট ও দুর্ঘটনা এড়াতে ব্যাটারিচালিত থ্রি-হুইলারের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান করছে। তবে বাস্তবতা ঠিক উল্টো! নিষিদ্ধ থ্রি-হুইলার প্রতিমুহুর্তে সড়কে জটলা লেগেই থাকে। সড়কের বেশিরভাগ পয়েন্টগুলোতে দুর্ঘটনার মূল কারণ এই থ্রি-হুইলারগুলো।

তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা এবং মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে তিন চাকার যানবাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানিয়েছে, ভালুকা উপজেলা একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল। এ অঞ্চলে প্রতিদিন হাজারো মানুষ কর্মস্থলে যাতায়াত করেন। ফলে মহাসড়কে যানবাহনের চাপও বেশি। এর মধ্যে ধীরগতির তিন চাকার যানবাহন মহাসড়কে চলাচল করায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। বিশেষ করে দ্রুতগতির যানবাহনের সঙ্গে এসব যানবাহনের সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে। 

তাদের মতে, তিন চাকার যানবাহনের জন্য নির্দিষ্ট সড়ক ও স্ট্যান্ড নির্ধারণ করা হলে মহাসড়কের ওপর চাপ অনেকটাই কমতে পারে। একই সঙ্গে যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা বন্ধ এবং মহাসড়কে অবৈধভাবে চলাচলকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান প্রয়োজন।

নিয়মিত মহাসড়কে চলাচলকারী চালকদের অভিযোগ, তিন চাকার যানবাহনগুলো অনেক সময় হঠাৎ মহাসড়কে উঠে পড়ে, যত্রতত্র থামে এবং তাদের ইচ্ছেমতো ইউটার্ন নেয়। ফলে পেছন থেকে আসা দ্রুতগতির যানবাহন বিপাকে পড়ে। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

এলাকাবাসীর প্রশ্ন, পুলিশের সামনে যদি দিনের পর দিন মহাসড়কে তিন চাকার যান অবাধে চলাচল করতে পারে, তাহলে এসব যান নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কোথায়? তারা মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নিয়মিত নজরদারি এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের মতে, ভালুকা পৌর এলাকার মহাসড়কে যান চলাচলে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হলে শুধু অভিযান পরিচালনা করলেই হবে না, নির্দিষ্ট সড়ক ও স্ট্যান্ড ব্যবস্থাপনা, চালকদের সচেতনতা এবং নিয়মিত ট্রাফিক নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে।

তাদের দাবি, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ভালুকা অংশে তিন চাকার যানবাহনের অবাধ চলাচল বন্ধে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। অন্যথায় মহাসড়কে যানজটের পাশাপাশি যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকেই যাবে।

সড়কে যাতায়াত করা যাত্রীরা বলছে, মহাসড়কে অটোরিকশা ওঠা নিষিদ্ধ হলেও সংশ্লিষ্ট দপ্তর তা বাস্তবায়নে ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। এতে সড়কে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. দেলোয়ার হোসেন মন্ডল, রাকিব পাঠান ও নজরুল ইসলাম। তারা জানান, স্বল্প দূরত্বে যাতায়াতের জন্য তিন চাকার যানবাহন সাধারণ মানুষের কাছে সহজলভ্য ও তুলনামূলক সাশ্রয়ী। ফলে যাত্রীদের চাহিদার কারণে এসব যানবাহনের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। তবে মহাসড়কে এগুলোর অবাধ চলাচল নিয়ে রয়েছে নানা উদ্বেগ।

চালকদের দাবি, জীবিকার তাগিদে তারা এসব যানবাহন চালান। স্থানীয় সড়ক ও আঞ্চলিক সড়কে চলাচলের পাশাপাশি অনেক সময় যাত্রী পরিবহনের জন্য মহাসড়কের ওপর নির্ভর করতে হয়। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দিষ্ট সড়ক ও বিকল্প ব্যবস্থা থাকলে মহাসড়কে চলাচলের প্রয়োজন কমবে বলে মনে করছেন তারা।

অটো চালকদের একাংশের দাবি অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে বা বিভিন্ন সময়ে অনৈতিক লেনদেন বা টাকা দেওয়ার বিনিময়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালানোর সুযোগ পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

চালকদের কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন যে, জরিমানা বা আটকের ভয় দেখিয়ে কিংবা নানা অজুহাতে অনেক সময় নির্দিষ্ট অংকের টাকা, যেমন র‍্যাকার বিল বা অন্যান্য খরচ বাবদ দিয়ে সড়কে গাড়ি নামানো হয়। 

যানজটের বিষয়ে মাছ ব্যবসায়ী আলামিন জানান, রাস্তায় যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং এবং ফুটপাত দখলের কারণেই এই এলাকায় প্রতিদিন তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

দুর্ঘটনা বা ট্রাফিক আইন নিয়ে দুলাল মিয়া নামে এক ব্যবসায়ী জানান, ট্রাফিক পুলিশের কড়াকড়ি না থাকায় অনেকেই উল্টো পথে গাড়ি চালায়, যার ফলে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে।

সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা ব্যক্তিরা বলছেন, মহাসড়কে ধীরগতির যানবাহন ও দ্রুতগতির যানবাহন পাশাপাশি চলাচল করলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেড়ে যায়। বিশেষ করে রাতে পর্যাপ্ত আলো ছাড়া চলাচলকারী তিন চাকার যানগুলো আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।

তাদের মতে, মহাসড়কে তিন চাকার যানবাহনের অবাধ চলাচল বন্ধ করতে হলে শুধু অভিযান পরিচালনা করলেই হবে না। স্থানীয় পর্যায়ে বিকল্প সড়ক, নির্দিষ্ট স্ট্যান্ড ও সড়ক নির্ধারণের পাশাপাশি নিয়মিত নজরদারি ও আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

নিরাপত্তা বা যানজট নিয়ে ভালুকা ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক (টিআই) পলাশ সাহা মুঠোফোনে বলেন, আমাদের জনবল সংকট, চারজন কনস্টেবল আর দুইজন অফিসার। আইন-শৃঙ্খলা মিটিংয়ে অটোরিকশার বিষয়ে আমি কয়েকবার প্রস্তাব দিয়েছি।

সড়কে অটোরিকশা চলাচল বিষয়ে ভালুকা ভরাডোবা হাইওয়ে পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) মো. খোরশেদ আলম মুঠোফোনে এনপিবি নিউজকে জানান, ভালুকায় যানজট নিরসন, সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং অবৈধ বা নিয়মবহির্ভূত অটোরিকশার বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে মামলা দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ওই পরিদর্শক।

অটো ফটো কার্ড

একটি পেশাদার সোশ্যাল নিউজ কার্ড।

1080 × 1080 px
ফটো কার্ড এখনো তৈরি হয়নি সংবাদের জন্য স্কয়ার HD কার্ড তৈরি হবে।
অটো ফটো কার্ড
নিচের বিজ্ঞাপন ব্যানার সাইটের বর্তমান horizontal banner স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যবহার হবে।
ad728

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরও খবর